এই যে ভেতরে একান্ত কুটিরে বাস করছি; ছুঁয়ে যাচ্ছে অনুভূতি। রাতের আফিম সেবন করেছি নিজের মতো করে। সারাদিন অক্লান্ত আর ঘন নিঃশ্বাসে ভারী হয়ে আসে বুক। হয়তো কখনো আনমনা ইচ্ছেরা ট্যুরে চলে যায় দূরের কোনো সৈকতে। যেখানে বেলাভূমে গড়াগড়ি খায় ব্যক্তিগত ইচ্ছে-অনিচ্ছের সম্ভাবনা। কখনো পাঁচমিশালি ভাবনা এসে হুলস্থূল কাণ্ড ঘটায়। রেখাপাত করে যায় সাদা পৃষ্ঠার বিস্তৃত ক্যানভাসে। কখনো জীবনের রঙে সেজে ওঠে বহুমাত্রিক চিহ্ন হয়ে। কখনো চিন্তার কাঁটা মৃদু ব্যথায় রঙের নানামাত্রিক ভাবনা ছড়ায়। খুব বেশি হইচই টের পাই আজকাল। কখনো চোখ ধাঁধানো কখনো মন ভাঙানো দৃশ্যের উৎসব দেখি। অনিশ্চিত আর সংশয়ের দিন শুরু হয়। রোদ ঝলমলে সকাল দেখে ঘুম ভাঙে; ধীরে ধীরে আঁধার নেমে আসে জনারণ্যে রাস্তায় ধর্মশালায় নিষিদ্ধপল্লিতে, উঠোনে আর গৃহে। দেহের ঘামে শ্রমিকের দিনাতিপাত। মঞ্চসজ্জার প্রয়োজনে দেহের কামে হ্যালোজেন আলো জ্বলে ওঠে ব্রোথেলে কর্পোরেট জীবনের অধিবাসী অর্থের বিনিমিয়ে কিনে নেয় একটি রাত অথবা কতো রাত! এসব ট্যাবু বলে বুলি আউড়িয়ে তারাই হয়ে হয়ে ওঠে শয্যার অংশীদার। বহুজাতিক ভাবনা সুরভি ছড়াতে ছড়াতে টোকা দিয়ে যায় বাহির দরজায়। দৃশ্যের পারদ অক্ষিগোলকের সামনে ভেসে ওঠে সেলুলয়েডের ফিতের দৃশ্যমান ছায়াছবি হয়ে। যেরকম লাটিম গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে অনিশ্চিত দিক খুঁজে নেয়। এইসব দৃশ্যের তীব্র ঘ্রাণ ঘুমোতে দেয় না কখনো কখনো। এমন অনেক দৃশ্য অস্থির শ্বাসকষ্টে ভোগে। যেনো কতোকাল ধরে অপরিচিত রোগে ভুগে ভুগে নিজেকে চিনতে ভুলে যাচ্ছি অনুভবের মোড়কে। আমি নার্সিসাস হয়ে উঠি। ভুলে বেভুলের রাজ্যপাটে হাঁটাহাঁটি করি নিজেই। অথচ জিরো আওয়ারের অপেক্ষা করতে করতে দিনরাত্রির ব্যবধান ভুলে গেছি; অনেক আগেই।

[ ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন ]