দেশজুড়ে তখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। শ্বেতাঙ্গ নরাধমের দাপটে কবরের শান্তি নেমে এসেছে দেশজুড়ে। সেদিন বৈশাখ মাসের এক নিশুতি রাত। বিদ্যুত চমকাচ্ছে মাঝে মাঝে। সেই সঙ্গে দমকা হাওয়ার আনাগোনা। কালবৈশাখীর পূর্বাভাস। দুরুদুরু বুকে পরিত্যক্ত নবাবী মহলে এসে পৌঁছল আগন্তুক। তাঁর লোভ আজ এমন রাতে তাঁকে টেনে এনেছে এখানে। প্রায় মিনিট কুড়ি আগে এলাকার কুখ্যাত চোরাই কারবারী জাঁকির মিঞাকে সে খুন করেছে স্রেফ একটা কাগজের টুকরোর জন্য।

বংশ পরম্পরায় পাওয়া দলিলের ভাঁজে একটা বিবর্ণ তুলোটে কাগজের অংশ সম্প্রতি আগন্তুকের নাগালে আসে। ফার্সি ভাষায় লেখা একটা চিঠির ছেঁড়া অংশ। ফার্সি ভাষা পড়তে না জানলেও দলিল পড়ে আগন্তুক যা বুঝেছে এবং সেটা যদি সত্যি হয়,তবে কাল থেকে সে রাজার হালে বাঁচবে।

জাঁকির মিঞার বলা কথাগুলো আগন্তুকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এখনও– ‘হুঁহঃ, লোকটা বলে কিনা মীর জাফরের খাস ভৃত্য মোশারফ আহমেদের বংশধর। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে মীর জাফর নাকি মোশারফকে চিঠির আধা হিস্যা দিয়ে যায়। বাকী অংশের খবর সে জানে না।’ আগন্তুকের হাতে ধরা সেই কাগজের বাকী অংশ দেখে বিস্ফারিত চোখে জাঁকির মিঞা জিজ্ঞেস করেছিল– “কে তুমি?” আগন্তুকের ঠোঁটের কোণে তখন ফুটে উঠেছিল একটা ক্রুর হাসি। সিল্কের আলখাল্লার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল একটা ভোজালি…

এমন সময় কুঠির ভেতর থেকে আসা নারীকণ্ঠের এক উচ্চস্বর আগন্তুককে বিচলিত করে তুলল– “আশ্চর্য! এত রাতে এই পরিত্যক্ত মহলে এমন সুর করে কে নামাজ পড়ছে? এই সময় তো…”

আগন্তুকের কথা শেষ হবার আগেই বিকট শব্দে কাছাকাছি কোথাও বাজ পড়ল।

আর ঠিক তখনই…

পরদিন মুর্শিদাবাদের লালবাগের পরিত্যক্ত ঐ মহলে রহস্যময় সেই লোকটার লাশ খুঁজে পায় লালমুখো পুলিশ। বলাই বাহুল্য, পরিত্যক্ত এই মহলের মালিক ছিল ‘ক্লাইভের গর্দভ’ মীর জাফর আলী খান। বর্তমানে সেই মহলের নাম ‘নমক হারাম দেউড়ি’। চিঠির সারমর্ম আর আগন্তুকের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে গেল।

[ ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন ]