সকাল। চুলায় চায়ের পানি ফুটছে। টেলিভিশনে চলছে ট্রাভেল এন্ড লিভিং চ্যানেল।

বাসায় কেউ নেই। বাইরে বৃষ্টি নেমেছে। আর খাবার টেবিলে বসে ল্যাপটপ খুলে আমি কী লিখব তাই ভাবছি।

ভাবছি চুলায় যে জল ফুটছে তাই দিয়ে লেখা শুরু করব কিনা। চুলায় জল ফুটছে— ছোট্ট একটা ছবি। অথচ আমার স্মৃতিকে বহু পেছনে টেনে নিয়ে একটা হাহাকার জাগিয়ে তুলল। একটা নাম মনে পড়ে গেল। নাতাশা। একটা শব্দবন্ধ মনে পড়ে গেল– উষ্ণ সামোভার। এরপর মনে পড়ল আমার কৈশোরের জ্বরের স্মৃতি। ভীষণ জ্বর। তার ভেতর আমি পড়ে যাচ্ছি বঞ্চিত লাঞ্ছিত।

সময়টা ২০০৪। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে লম্বা অবসর। আগে ওই সময়টায় কলেজ ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়তে হতো। সে বছর পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। কলেজ ভর্তি হবে ফলের ওপর।
আমার আবেগী কৈশোর। আমার জ্বরতপ্ত মস্তিষ্ক। তা-ই নিয়ে দস্তয়েভস্কির সাথে আমার প্রথম পরিচয়। ফলাফল— পরবর্তী জীবনে দস্তয়েভস্কির পাতায় পাতায় আমার জ্বর ঢুকে গেল। যখন দস্তয়েভস্কি পড়ি, মনে হয় যেন আমি জ্বরের একেকটা দিন পার করছি।

বঞ্চিত লাঞ্চিতের সেই বাক্যটা কী ছিল?

রান্নাঘরে উষ্ণ সামোভার…

বোধহয়। একটা কবিতার অংশ ছিল কি ওটা?

ওহ, যে লিখবে বলে শপথ করেছে, তার জন্যে লেখা সবচেয়ে কঠিন। কারণ নিজের ওপর একটা প্রত্যাশার বোঝা সে চেপে বসিয়েছে। তাকে চারপাশ থেকে সংবেদ গ্রহণ করতে হবে এবার। বিধায় হয়ে উঠতে হবে সংবেদনশীল।

সংবেদনশীল যে প্রাণ, সে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর মতো আঘাত জড়ো করে, কিন্তু মরে না। ঠিক যেন নরক।

লেখালেখি নারকীয় শাস্তি। কিন্তু তা কার্যকর হয় স্বর্গে। একজন শিল্পীর মতো নারকীয় স্বর্গবাস আর কেউ করে না। এই নারকীয় স্বর্গবাসের ভার সবার জন্য নয়ও। প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে কোনো না কোনো পথে শিল্পী হওয়ার পরও তাই পিছিয়ে আসে।

… কিছু বাক্য লিখলাম বৈদ্যুতিন সাদা কাগজে। কিন্তু খুবই দুর্বল মনে হলো। মুছে দিই।

আবার লিখলাম। আবার মুছলাম।

এভাবে চতুর্থবারের পর মনে হলো, নাহ, পঞ্চমেই একে ঠেকানো দরকার। ঠেকাতে শক্তি চাই। কোথায় পাই?

উঠে দাঁড়ালাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে বরং কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখি। যদি কিছু মেলে।

২.

মিরপুরের এদিকটায় এখনো পুরনো কিছু বাড়িঘর রয়ে গেছে। দেখতে বেশ। কিন্তু নতুন সব দালান আর গাছপালায় এমনভাবে ওসব ঢাকা থাকে যে প্রায় চোখেই পড়ে না। এসবের ভেতর বেশির ভাগই দোতলা। হঠাৎ একটা দুটো তিন বা চারতলা বাড়ি চোখে পড়ে।

চার তলার বেশি উঁচু করার মতো কাঠামোগত সুবিধা তখন ছিল না বোধহয়। পাকিস্তান আমলের কলোনীগুলোয় গেলেও দেখা যায়, বাড়িঘর সব চারতলা। আমি যে বাড়িতে থাকি তার পেছনরাস্তার ওপারে একটা বাড়ি আছে এমন, পুরনো চারতলা। তবে ওটা সেকালের বেশ সৌখিন বাড়ি বোধহয়। একটা জ্যামিতিক সজ্জায় সিরামিক ইটের নকশা। তাকে ঘিরে দারুণ সব লতাগুল্মের ঝাড়। বাড়িটা আমার মন ভালোর উপলক্ষ।

যখন পেছনের বারান্দায় এসে দাঁড়াই, বাড়িটা দেখতে পাই। অবশ্য এখন দৃষ্টির মাঝখানে বৃষ্টির পর্দা পড়েছে, তাই অল্পসল্প দেখতে পারছি। বাতাসের তোড়ে থেকে থেকে দুলছে জলের পর্দা। বেশ শোর করে ঝরছে আজ। আকাশ থেকে কড়কড় শব্দে বরফ ফাটার শব্দ আসছে এখনো। সহজে থামবে বলে মনে হয় না।

আগেকার কলোনীগুলোর চার তলা বাড়িগুলোকে দেখে মনে হয় বুঝি কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছে। এ বাড়িটিকেও দেখে আমার মনে হয় কষ্ট হচ্ছে তার, তবু জোর করে খাটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে দুই কষ্টে কিছু পার্থক্য আছে। ওটার কারণ তার অবকাঠামো। আর এটার কারণ মানুষ।

এখানকার পুরনো বাড়িগুলোকে আলাদা আলাদা করে ভাগ করে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ করা সুদর্শন কিছু তরুণ তরুণী। এরা ঘরের ভেতর গিয়ে একেকবার একেকটা কথা বলে আসে, পরবর্তীতে যে কথা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভেতর আলোচনা সমালোচনা হয়, বাগবিতণ্ডা হয়।

সেখানে রাবণ থাকে, বিভীষণ থাকে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থানে অবিচল। প্রত্যেকের কাছে আছে নিজ কাজের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা। তবে মৃত্যুর মতো আরেক অলঙ্ঘনীয় ঈশ^র আছে পৃথিবীতে। তার নাম টাকা। দূর অতীতে আমাদের দার্শনিকেরা একটা শব্দ তৈরি করেছিলেন, পুঁজি। টাকা পুঁজির একক। পুঁজি শব্দটা আমায় ক্ষতের পুঁজের কথা মনে করিয়ে দেয়।

একসময়ের ওই বনেদী বাড়িটির মালিক এখন হয়ত ক্ষয়িষ্ণু উচ্চ মধ্যবিত্তে পরিণত। নতুন পৃথিবীর যে পুঁজির জোর, তার বিরুদ্ধে লড়ার মতো পুঁজির পাল্টা জোর তার নেই। বা হয়ত আছে। আছে বলেই যুদ্ধ এখনো চলছে সমানে সমানে।

অসম যুদ্ধ শুরু হয়, কিন্তু চলে না। চলে কেবল সমশক্তির দ্বি-পক্ষীয় যুদ্ধ। আর যে যুদ্ধ ত্রি-পক্ষীয়, তা মহৎ দুঃখের আকর। মহাকাব্যের উপাদান।

এ ঘরটা হয়ত তেমনই উপাদানে পরিণত। নয়ত এতো মলিন হয়ে যাচ্ছে কেন দিনকে দিন?

হয়ত কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে গেছে পরিবার। মনোমালিন্য চলমান। বয়স্ক সদস্যদের বুকের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মানুষ আজকাল কষ্টদায়ক মৃত্যুর জন্য বুড়ো হয়।

এতোসবের ভেতর আর্ত একটি মেয়ে, হয়ত খুব কোমল তার মন, এইমাত্র বারান্দায় এসে দাঁড়াল। আমাদের মাঝখানে বৃষ্টির ব্যবধান।

মেয়েটি রেলিঙে ভর দিয়ে দাঁড়াল। হায়, চুলায় চায়ের পানি নিশ্চয়ই এতোক্ষণে শেষ!

বসার ঘরে টেলিভিশনে এক কালো মেয়ে ইংরেজিতে কত কী বকে যাচ্ছে, শোনার কেউ নেই। চায়ে আজকাল আর চিনি মেশাচ্ছি না। দেখি ক’দিন পারা যায়। আমার কাজ তো সব বসে থাকার। শরীরে শর্করা ভাঙছে না। নিত্য নতুন ইনপুট কেবল ঢুকছে।

চা হাতে যখন বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছি, মেয়েটি তখনো আছে। তবে এবার বাগানবিলাসের খানিকটা আড়াল নিয়ে দাঁড়িয়েছে। বোধহয় মন একটু ভালো হয়েছে। এবার বৃষ্টির ছাঁট থেকে নিজেকে বাঁচাতে চায়।

আমার কেমন ঈর্ষা হলো। আমার কথায় কথায় ঈর্ষা হয় সবাই জানে। কিন্তু আমি যখন নতুন শৈলীর কাঠখোট্টা দালানের কারাগারতুল্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। দূরের খোলা বারান্দায় আমারই বয়েসী একটি মেয়েকে এমন বৃষ্টিবিলাসী ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার ঈর্ষা জাগতে পারে না? উপরন্তু তার সামনে যদি এমন আড়াল দিয়ে রাখে অমন বনবন্ধু বাগানবিলাস?

কত হবে এ গাছের বয়েস? বছর কুড়ি? মাটি থেকে উঠে ওদের দোতলা পেরিয়ে আরো ওপরে চার তলা পর্যন্ত উঠে গেছে। পুরু কাণ্ডের মোচড়ে যেমন শক্তি, ভেজা সবুজ পাতা আর গাঢ় গোলাপি ফুলের ঝাড়ে তেমনই রূপ। মেয়েটির মুখ চোখ বোঝা না গেলেও আমার কল্পনার চোখে সে রূপসী হয়ে উঠল।

হঠাৎ বারান্দার শিকের ফাঁক গলে নিচে চোখ পড়ল। কাঠাখানেক জায়গা। কিছু গাছপালা নতমুখে দাঁড়িয়ে ভিজছে ওখানে। আশ্চর্য সুন্দর। বৃষ্টি ঝরছে উন্মুখ কাঁঠাল পাতার ওপর। কাঠবাদামের সাহসী পাতার ওপর। কৃষ্ণচূড়ার ফুলহীন পত্রমঞ্জুরীর ওপর। কী কালো দেখাচ্ছে কাণ্ডগুলো। বাতাসে ভেজা মাটি আর বৃক্ষকাণ্ডের ঘ্রাণ। মাটির ওপর গোড়ায় প্রায় এক গোড়ালি জল। তার নিচে যেন আয়নার ওপারে থাকা কালো মাটি।

জায়গাটার পশ্চিম কোণে এক পরিবার বহুদিন হলো টিনের ঘর বানিয়ে থাকে। গাছগুলো ওদের। এই ঘোর শহরের ভেতর ওটুকু যেন একটুকরো গ্রাম। বৃষ্টিতে ওদের শুকোতে দেওয়া জামাকাপড়গুলো সব ভিজে যাচ্ছে। কেউ কি দেখার নেই? ঘরে কেউ নেই নাকি।

পরিবারটা অভাবী। বেশ কিছু গাছ ওরা বাধ্য হয়েই কেটে ফেলেছে। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ায় আমার মন খারাপ হয়ে গেল।

আমার যদি সাধ্য থাকত, একদিন ওদের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে এসে অতিকায় এক গগণ শিরীষের জীবন বাঁচাতাম। শিরীষটার জন্যে আমার মন এখনো পোড়ে। আমার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী ওই গাছ। গল্পটা বলি। গাছটা ছিল দূরে। তবু ডালপালার একটা অংশ চারতলার এই পেছন-বারান্দার কাছে এসে থেমেছিল। দৃশ্যটা যেন স্নিগ্ধ কোনো জলরঙের ছবি ফুটে থাকত আমার সামনে। বৃষ্টির দিনে তো কথাই নেই।

একবারের কথা। এলাকায় সমস্ত শিরিষের ডালে ডালে ফুল এসেছে, আশ্চর্য মোহগন্ধা ফুল। কেবল আমার শিরীষ গাছে কোনো ফুল আসেনি। আমার গাছই বটে।

কী ব্যাপার? ফুল কেন আসে না?

নীচে পরিবারটায় সারাক্ষণ কী নিয়ে যেন ঝগড়া লেগে থাকে। ওদের মনে শান্তি নেই। কী নিয়ে যেন সারাক্ষণ দ্বিমত ওরা। কোনোভাবেই স্থির হতে পারছে না। কারণটা তখনো বোঝা যায়নি। বোঝা গেল ক’দিন পরের এক রাতে। গভীর রাতে। ঘুম আসছিল না। একটু খোলা হাওয়া পেতে পেছনের বারান্দায় দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ নিচে কিসের নড়াচড়া চোখে পড়ল। দেখে আমি জমে গেলাম।

নিচে একদল লোক। কারো কারো হাতে যে মারণাস্ত্র তা স্পষ্ট বোঝা গেল। ওরা পরিবারটির সবার মুখ-হাত বেঁধে মাটিতে বসিয়ে রেখেছে। ঘরের জিনিস সব ছুঁড়ে ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিচ্ছে।

আমি বোকার মতো চিৎকার করে বলে উঠলাম, এই, কী হচ্ছে!

আমার কথা ওরা নিশ্চয়ই শুনতে পেয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাল না। হঠাৎ দেখতে পেলাম কেবল আমি নই। বারান্দায় বারান্দায় আরো অসংখ্য মানুষ। বোধহয় অনেকটা সময় ধরে এসব দেখে যাচ্ছে। কেউ টু শব্দ করছে না। করে হয়ত বিপদ কুড়োতে চায় না। যদি গুলি করে বসে? তখন যে মরবে সেই হবে অপরাধী। তার পরিবারকেই পালিয়ে বেড়াতে হবে।

এমন সময় পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে তালির শব্দ ভেসে এলো। তাকিয়ে দেখি এক লোক আমারই দিকে ইশারা করছে। শব্দ করতে নিষেধ করছে। তার হাতে একটা মোবাইল টেলিফোন। কোথায় যেন ফোন করছে, ইশারায় আমাকে বোঝাল।

কে আসবে ওদের সাহায্য করতে? পুলিশ? বোধহয় না। মিরপুর দশের মতো একটা ঘনবসতি জায়গায়, লোকের নাকের ডগায় একটা পরিবারকে রাতের আঁধারে এভাবে বের করে দিচ্ছে, এতে পুলিশের সায় নেই এ কথা আমার বিশ্বাস হয় না।

ল্যাম্পপোস্টে ঢিল ছুঁড়ে কেউ সব অন্ধকার করে দিয়েছে। গাছপালার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, বাড়ি থেকে সব বের করে দেওয়া হলে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে হাত-পা মুখবাঁধা মানুষগুলোকে বাইরের একটা সাদা মাইক্রোবাসে তোলা হলো।

লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখি তখন সে ফোন করেই যাচ্ছে। কানে ঠেকিয়ে অস্থির হয়ে পায়চারি করছে বারান্দাময়। সাদা মাইক্রোবাসটা ছেড়ে দিলো। মেইনরোডের দিকে সারি সারি দালানকোঠার আড়ালে হারিয়ে গেল ওটা। এখন আর কণ্ঠ তুলে লাভ নেই। দেখলাম, চারপাশের বারান্দার মানুষ বেশিরভাগ বাসায় ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। এতোক্ষণ এমনভাবে দেখে গেছে, যেন ওরা নেই। এবার সত্যিই উধাও হলো। এখন এমনভাবে থাকবে যেন কোনো কিছু ঘটেনি। পরদিন জেনেছি তিনদিকে দালান রেখে, গলির রাস্তার ঘেঁষে এই কয়েক কাঠা জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন হলো মামলা চলছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারটিকে এখানে থাকার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

লোভনীয় এ জায়গার ওপর অনেক লোকের চোখ। তাদের ভেতর কারো কারো টাকায় এলাকার রাজনীতি চলে। শুনেছি সেই রাতে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় ওদের গোটা ঢাকা শহর ঘুরিয়েছে সন্ত্রাসীরা। কেউ কোনো শব্দ করতে পারেনি। সকালে হাত পায়ের বাঁধন খুলে মুঠোয় কিছু টাকা দিয়ে সদরঘাট নামিয়ে দিয়েছে। বলেছে, বাড়ি যা। ঢাকায় ফিরলে লাশ পড়বে।

দিনের পর দিন কেটে যায়। বাড়িটায় দিনের বেলা তালা পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে রাতের বেলা কারা যেন আসে, হাসির আওয়াজ পাওয়া যায়। দেখতে দেখতে একটি মাস।

হঠাৎ একদিন সবাই অবাক। সঙ্গে পুলিশ নিয়ে পরিবারটি ফিরে এসেছে। রাষ্ট্র কি এতো সবুজ হয়ে গেছে?

পুলিশ এবার সেই দখলদারদের জিনিসপত্র আলামত হিসেবে নিয়ে গেল। পরিবারটিকে তাদের ঘর বুঝিয়ে দিলো। মরচেপড়া টিনের চালার সেই ঘর। কাঠের দরজা।

এর ঠিক দুদিন পর, ঘুম ভাঙার পরই শিরীষ ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ পেলাম। নিষ্পুষ্প গাছটা যেন অপেক্ষমানা সাবিত্রী। তবে কি এই পরিবারটিকে সে ভালোবাসত? তাদের অস্থির সময়ে নিজের অধীর হয়ে উঠেছিল, ফুল ফোটাতে পারছিল না?

আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। যাকে পেলাম তাকেই এ গল্প বললাম। কেউ শুনে হাই তুলল, কেউ অবাক হয়ে গেল।

ফুল ফোটানোর সাত দিনের মাথায় সে কাটা পড়ল।

৩.

যখন গগন শিরীষে ফুল আসার ওই অতিপ্রাকৃত মুহূর্তের কথা মনে এসেছিল, তখন মুহূর্তের জন্যে ভেবেছিলাম যা লিখব বলে খুঁজছি তা পেয়ে গেছি। কিন্তু যখনই চোখে ভেসে উঠল তার কাটা পড়ার দিনটার কথা, ভেতরে কী যেন মরে গেল। লেখার কথা মুছে গেল মন থেকে। কী লাভ? কী হয় লিখে?

বৃষ্টি ধরে এসেছে।
মেয়েটিও নেই।

৪ঠা আষাঢ়, ১৪–

[ ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন ]